মহাত্মা গান্ধীর জীবনী PDF | Mahatma Gandhi Biography in Bengali
মহাত্মা গান্ধীর জীবনী PDF (Mahatma Gandhi Biography in Bengali) : জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন উপলক্ষে প্রতিবছরের ২ অক্টোবর দিনটি সারা দেশ ব্যাপী গান্ধী জয়ন্তী হিসাবে উদযাপন করা হয়ে থাকে। স্টুডেন্টস কেয়ারের পক্ষ থেকে গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে গান্ধীজীর নানান তথ্য অবলম্বনে কুইজের আয়োজন করা হয়েছে। আপনারা এই কুইজে অংশ গ্রহণ করুণ এবং গান্ধীজী সম্পর্কে নানান তথ্য জেনে নিন।
গান্ধী জয়ন্তী কী? গান্ধী জয়ন্তী কেন পালন করা হয়?
২রা অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তী : গান্ধী জয়ন্তী হল ১৮৬৯ সালের ২রা অক্টোবর জন্মগ্রহণকারী মোহনদাস গান্ধীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ভারতে উদযাপিত একটি অনুষ্ঠান। এটি প্রতিবছর ২রা অক্টোবর পালিত হয়, এবং এটি ভারতের জাতীয় ছুটির মধ্যে একটি। এই দিনটি সারা দেশে সমান মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয়। ২০০৭ সালের ১৫ ই জুন ইউএন সাধারণ পরিষদ ঘোষণা করেছিল যে, এদের গৃহীত একটি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২রা অক্টোবর দিনটি আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস হিসাবে উদযাপিত করা হবে।
মহাত্মা গান্ধীর সংক্ষিপ্ত পরিচয়ঃ
মোহনদাস কর্মচন্দ গান্ধী বা মহাত্মা গান্ধী (২রা অক্টোবর ১৮৬৯ – ৩০শে জানুয়ারি ১৯৪৮) ছিলেন অন্যতম ভারতীয় রাজনীতিবিদ, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রগামী ব্যক্তিবর্গের মধ্যে একজন এবং প্রভাবশালী আধ্যাত্মিক নেতা। এছাড়াও তিনি ছিলেন সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা। যার মাধ্যমে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনসাধারণ তাদের অভিমত প্রকাশ করে। এ আন্দোলন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল অহিংস মতবাদ বা দর্শনের উপর ভিত্তি করে এবং এটি ছিল ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম চালিকা শক্তি, সারা বিশ্বে মানুষের স্বাধীনতা এবং অধিকার পাওয়ার আন্দোলনের অন্যতম অনুপ্রেরণা। নবজাগ্রত জাতির হাতে তিনিই তুলে দিয়েছিলেন ‘অহিংসা’ নামক অমোঘ এক অস্ত্র । তিনি গোটা ভারতে এবং বিশ্ব জুড়ে মহাত্মা (মহান আত্মা) এবং বাপু (বাবা) নামে পরিচিত। ভারত সরকার তাঁকে ভারতের ‘জাতির জনক’ হিসেবেও ঘোষণা করে।
| নাম | মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী বা মহাত্মা গান্ধী |
| জন্ম | ২ অক্টোবর ১৮৬৯ |
| মৃত্য | ৩০ জানুয়ারি ১৯৪৮ |
| মৃত্যুকালীন স্থান ও বয়স | নয়াদিল্লী, ভারত (বয়স ৭৮ বছর) |
| জন্মস্থান | পোরবন্দর, গুজরাট, ব্রিটিশ ভারত |
| পিতার নাম | করমচাঁদ উত্তমচাঁদ গান্ধী |
| মাতার নাম | পুতলিবাই গান্ধী |
| দাম্পত্য সঙ্গী | কস্তুরবা মাখাঞ্জী |
| সন্তান | হরিলাল গান্ধী, মনিলাল গান্ধী, রামদাস গান্ধী এবং দেবদাস গান্ধী |
| জাতীয়তা | ভারতীয় |
| অন্যান্য নাম | মহাত্মা গান্ধী, বাপুজি, গান্ধীজি |
| শিক্ষা | ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন |
| পেশা | উকিল, রাজনীতিবিদ, আন্দোলনকারী, লেখক |
| কর্মজীবন | ১৮৯৩–১৯৪৮ |
| পরিচিতির কারণ | ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনঅহিংস আন্দোলন |
| রাজনৈতিক দল | ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস |
| পুরষ্কার | Time Person of the Year (১৯৩০) |
| সন্তান | হরিলালম, নিলালরামদাসদেবদাস |
| মৃত্যু | ৩০ জানুয়ারি ১৯৪৮ |
আজকে এই পোস্টের মাধ্যমে মহাত্মা গান্ধীর জীবনী সম্পর্কে নানান অজানা তথ্য গুলি জেনে নেবো।
⇒ মহাত্মা গান্ধীর জীবনী বিস্তারিত আলোচনা
জন্ম ও বংশ পরিচয়
মহাত্মা গান্ধী ১৮৬৯ সালের ২ রা অক্টোবর পোরবন্দরের হিন্দু মোধ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। যার বাল্য নাম ছিল মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী । গান্ধীজীর পূর্বপুরুষগণ বংশানুক্রমে কাথিয়াবাড় প্রদেশের পােরবন্দর নামক স্থানের দেওয়ান ছিলেন । পারিবারিক আদর্শের বেদি মঞ্চেই তাঁর মহৎ জীবনের দীক্ষা। পিতার তেজস্বিতা, সত্যনিষ্ঠা ও বুদ্ধি এবং মাতার ধর্মপ্রাণতা ,ক্ষমা, করুণা সহিষ্ণুতা প্রভৃতি মানবিক গুণ তিনি উত্তরাধিকার সূত্রেই পেয়েছিলেন । তিনি জন্মেছিলেন হিন্দু বৈশ্য গোত্রে, যা ছিল ব্যবসায়ী গোত্র।
মহাত্মা গান্ধীর পিতৃপরিচয়
মহত্মা গান্ধীর বাবার নাম করমচাঁদ গান্ধী (Karamchand Gandhi)। তার পিতা ছিলেন গুজরাতের পোরবন্দরের দেওয়ান (প্রধান মন্ত্রী)। মহাত্মা গান্ধীর (Mahatma Gandhi) ডাকনাম ছিল কাবা গান্ধী । গুজরাটের সামাজিক রীতি-নিয়ম প্রচলিত ছিল যে, ছেলের নামকরণের সময় বাবার নামও তার নামের সঙ্গে জুড়ে দিতে হত। তাই গান্ধীজীর নামের সাথে ‘করমচাঁদ’ জুরে নাম রাখা হয়েছিল মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। সেই সময়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী গান্ধীর বাবা চারটি বিবাহ করেছিলেন। করমচাঁদের চার স্ত্রীর মধ্যে তার তৃতীয় স্ত্রী ছিলেন নিঃসন্তান। প্রথম দুই স্ত্রী কম সময়ের ব্যবধানে মারা যাওয়ার পর করমচাঁদ মহত্মা গান্ধীজীর মা কে বিয়ে করেন।
মহাত্মা গান্ধীর মাতৃপরিচয়
মহত্মা গান্ধীর মা এর নাম পুতলিবাই গান্ধী (Putlibai Gandhi)। তিনি প্রাক্তন রাজকোট দেওয়ান করমচাঁদ গান্ধীর কনিষ্ঠা বা চতুর্থ স্ত্রী। পুতলিবাই প্রণামী বৈষ্ণব গোষ্ঠীর ছিলেন এবং হিন্দুধর্মের একনিষ্ঠ সেবিকা ও কঠিন ধর্মানুরাগী নারী। পুতলিবাই-এর পিত্রালয় ছিল গুজরাটের জুনাগড় রাজ্যের দাঁতরানা (দন্তরানা) নামে একটি গ্রামে। তিনি করমচাঁদের থেকে বয়সে বাইশ বছরের ছোট ছিলেন। মোহনদাস ছিলেন তার কনিষ্ঠ সন্তান। যাকে তিনি আদর করে মনিয়া বলে ডাকতেন।
মহাত্মা গান্ধীর শৈশবকাল
বাল্য ও শৈশবের শিক্ষা কাথিয়াবাড়ে সমাপ্ত করেন মােহনদাস। তার শৈশব কালে প্রিয় খেলা ছিল কুকুরের কান মোচড়ানো। গান্ধীর ব্যাপারে তার বোন মন্তব্য করেন, তিনি খেলাধুলা কিংবাা ঘুরাঘুরির ব্যাপারে পারদের মত নিশ্চল ছিলেন। ধার্মিক মায়ের সাথে এবং গুজরাতের জৈন প্রভাবিত পরিবেশে থেকে গান্ধী ছোটবেলা থেকেই জীবের প্রতি অহিংসা, নিরামিষ ভোজন, আত্মশুদ্ধির জন্য উপবাসে থাকা, বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী ও সম্প্রদায়ের পারস্পরিক সহিষ্ণুতা ইত্যাদি বিষয় শিখতে শুরু করেন।[ এরপর বিলাতে গিয়ে ব্যারিস্টারি অধ্যয়ন করেন । পরে দেশে ফিরে এসে বােম্বাই হাইকোর্টে আইনব্যবসা আরম্ভ করেন ।
মহাত্মা গান্ধীর শিক্ষাজীবন
মহাত্মা গান্ধী ছোটবেলায় পোরবন্দর ও রাজকোটের ছাত্রজীবনে মাঝারি মানের ছাত্র ছিলেন। গান্ধীর বয়স যখন ৯ বছর তখন তিনি রাজকোটের একটি স্থানীয় স্কুলে ভর্তী হন এবং পাটিগণিত, ইতিহাস, ভূগোল এবং ভাষার মৌলিক বিষয়গুলি অধ্যয়ন করেন। 11 বছর বয়সে, তিনি রাজকোটের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৮৭ সালে ১৮ বছর বয়সে কোন রকমে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে, ১৯৮৮ সালের জানুয়ারি মাসে গুজরাতের ভবনগরের সামালদাস কলেজে ভর্তি হন। তিনি কলেজেও সুখী ছিলেন না, কারণ তার পরিবারের ইচ্ছা ছিল তাকে আইনজীবী করা। বাবার ইচ্ছে পুরণ করতে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মাত্র ২০ বছর বয়সে ১৮৮৮ সালের ৪ঠা সেপ্টেম্বর ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য লন্ডনে যান। এরপর দেশের মাটিতে পা রাখলেন ১৮৯১ সালে ব্যারিস্টারি পাস করে। তাঁর কর্মজীবনের প্রথম পদক্ষেপ শুরু হয় বম্বে হাইকোর্টে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে।
মহাত্মা গান্ধীর কর্মজীবন
বম্বে হাইকোর্টে ওকালতি দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও, তিনি তাঁর প্রথম মামলায় খুব নার্ভাস হয়ে যান। যখন সাক্ষীকে প্রশ্ন করার সময় আছে তখন তাঁর মাথা শূন্য হয়ে যায়। লন্ডন থেকে ব্যারিস্টারি পাশ করে এসেও গান্ধী সেই মুখচোরাই ছিলেন। ব্যবসায় প্রসার ছিল না। প্রসার হবেই বা কিভাবে? আদালতে দাঁড়িয়ে কথা বলতে গেলে তার যে পা কাঁপত। বিপক্ষের উকিল কিছু বললে তিনি আমতা আমতা করে কোন উত্তরই দিতে পারতেন না। এমন উকিলকে কে চাইবে? অগত্যা গান্ধীজী তার ক্লায়েন্টকে সম্পূর্ণ পারিশ্রমিক ফেরত দিয়ে দেন। এরপর গান্ধীজি দাদা আব্দুল্লা এন্ড সন্সের আইনজীবী হিসাবে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। সেসময় দক্ষিণ আফ্রিকায় এশিয়াবাসী তথা কালো মানুষদের ওপর নানা অত্যাচার হতো। সেখানে গান্ধীজি অহিংসভাবে শুরু করলেন ‘অহিংস সত্যাগ্রহ’ সংগ্রাম । ২২শে মে ১৮৯৪ সালে গান্ধী নাটাল ইন্ডিয়ান কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন।
মহাত্মা গান্ধীর বিবাহ জীবন
১৮৮৩ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে মহাত্মা গান্ধী তার বাবা মায়ের পছন্দে কস্তুরবা মাখাঞ্জীকে (কাস্তুবাই নামেও পরিচিত ছিলেন) বিয়ে করেন। তাদের চার পুত্র সন্তান জন্মায় যাদের নাম হরিলাল গান্ধী, (জন্ম ১৮৮৮) মনিলাল গান্ধী, (জন্ম ১৮৯২) রামদাস গান্ধী (জন্ম ১৮৯৭) এবং দেবদাস গান্ধী (জন্ম ১৯০০) সালে।
মহাত্মা গান্ধী: ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে ভূমিকা
দক্ষিণ আফ্রিকাতে ২১ বছর কাটানোর পর ১৯১৫ সালের ৯ই জানুয়ারী গান্ধী ভারতে ফিরে আসেন। এইজন্য ওই দিনটিকে প্রবাসী ভারতীয় দিবস হিসাবে পালন করা হয়। গান্ধীর ভারতীয় রাজনীতি এবং ভারতীয় জনগণের সাথে পরিচয় হয় গোপালকৃষ্ণ গোখলের মাধ্যমে, যিনি তৎকালীন একজন সম্মানিত কংগ্রেস নেতা ছিলেন।
গান্ধীর প্রথম বড় কৃতিত্ব ছিল ১৯১৮ সালে যখন তিনি বিহারের চম্পারণ ও খেদা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। এছাড়াও তিনি তিনি ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলন, আইন অমান্য আন্দোলন, স্বরাজ এবং ভারত ছাড়ো আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।
মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন
পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগে সাধারণ মানুষের উপরে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের ফলে জনসাধারণ ক্ষুব্ধ হয়ে যায় এবং সহিংসতার মাত্রা বৃদ্ধি পায়। গান্ধী তার অহিংস কর্মের সামগ্রিক পদ্ধতিকে সত্যাগ্রহ হিসাবে চিহ্নিত করেছিলেন। গান্ধীজির সত্যাগ্রহ নেলসন ম্যান্ডেলা এবং মার্টিন লুথারের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের স্বাধীনতা, সাম্য এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের সংগ্রামে প্রভাবিত করেছিল। মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহ ছিল প্রকৃত নীতি ও অহিংসার উপর ভিত্তি করে।
[আরও পড়ুন- জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস তালিকা ১২ টি মাসের]
⇒ ভারতবর্ষে গান্ধীজীর কয়েকটি আন্দোলন
১. চম্পারন আন্দোলন–
১৯১৮ সালে গান্ধীজী ইংরেজ জমিদারদের বিরুদ্ধে বলপূর্বক নীল চাষ করানোর অভিযোগ এনে চম্পারন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।
২. খেড়া সত্যাগ্ৰহ–
১৯১৮ সালে খেড়া নামক স্থানে মনে হয় এবং প্রচুর ফসল নষ্ট হয়েছিল, যার ফলে কৃষকদের কর ছাড়ের প্রয়োজন ছিল। ফলস্বরূপ, গান্ধীজি পুনরায় অহিংস খেড়া সত্যাগ্ৰহ আন্দোলন শুরু করেন।
৩. খিলাফত আন্দোলন–
খিলাফত আন্দোলন সর্বভারতীয় আন্দোলন ছিল। ১৯১৯ সালে গান্ধীজীর অনুমান করলেন যে কংগ্রেস দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। ফলে তিনি মুসলিম সমাজের কাছে যান। তাঁ পরিকল্পনা ছিল হিন্দু মুসলিম একতা বজায় রেখে ব্রিটিশদের ভারত ছাড়তে বাধ্য করা।
৪. অসহযোগ আন্দোলন
বিভিন্ন আন্দোলনের মোকাবিলা করার জন্য ইংরেজ সরকার ১৯১৯ রাওলাট আইন (Roulatt Act) পাশ করেন। এই আইনের পরিপ্রেক্ষিতে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। মহাত্মা গান্ধী এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ১৯২০ সালে অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেন। এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয়রা যেন কোন ভাবে ইংরেজদের সাহায্য না করে।
৫. ডান্ডি আন্দোলন
১৯৩০ সালে তিনি এই শুরু করেন। এ আন্দোলন লবণ সত্যাগ্রহ আন্দোলন বা ডান্ডি আন্দোলন বা ডান্ডি মার্চ বা Civil Disobedience Movement নামে পরিচিত।
৬. ভারত ছাড়ো আন্দোলন
১৯৪২ সালে তিনি বিস্তৃতভাবে ভারত ছাড়ো আন্দোলন শুরু করেন।
গান্ধিজী ও ভারতের স্বাধীনতা লাভ:
১৯৪৬ এর নৃশংস সাম্প্রদায়িকতা হল সেই বিষফল । দেশ দ্বিখণ্ডিত হল ; জন্ম নিল দুই ভূখণ্ড ; ভারত ও পাকিস্তান । ১৯৪৭ খ্রিঃ ১৫ ই আগস্ট ভারত দেশভাগের মূল্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করে । সেই বছরেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য গান্ধীজির । নােয়াখালি সফর ভারত ইতিহাসের এক উল্লেখযােগ্য ঘটনা । অপরদিকে, পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করে একদিন আগে ১৪ ই আগস্ট ১৯৪৭ ।
গাঁধীজির জীবনাবসান
১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি গান্ধীকে এক আততায়ী গুলি করে হত্যা করা হয়। সে সময় তিনি নতুন দিল্লীর বিরলা ভবন (বিরলা হাউস) মাঝে রাত্রিকালীন পথসভা করছিলেন। নতুন দিল্লির রাজঘাটের স্মৃতিসৌধে আছে – “হে রাম” – শব্দ দুটিকে গান্ধীর শেষ কথা বলে বিশ্বাস করা হয়। গান্ধীর ইচ্ছানুযায়ী, তার দেহভস্ম বিশ্বের বেশ কয়েকটি প্রধান নদী যেমন: নীলনদ, ভোলগা, টেমস প্রভৃতিতে ডুবানো হয়।
⇒ গান্ধীজীর বিভিন্ন উপাধি
- নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু গান্ধীজী কে রাষ্ট্রপিতা বলে সম্বোধন করেন।
- ভারত বর্ষে মহাত্মা গান্ধীকে জাতির জনক বলা হয়।
- রবীনাথ ঠাকুর মাতা গান্ধীজী কে মহাত্মা উপাধি দেন।
- গান্ধীজিকে অর্ধনগ্ন সাধু (Half Naked Saint) বলতেন Frank Mores ।
- চার্চিল (Winston Churchill, ১৯৩১) গান্ধীজীকে ফকির বলতেন।
⇒ মহাত্মা গান্ধীর আত্বজীবনীর নাম কী?
“My experiments with truth”.
⇒ গান্ধীজীর লেখা বই গুলি কী কী?
- হিন্দ স্বরাজ (Hind Swaraj), ১৯০৯
- My experiments with truth, ১৯২৭ – মহাত্মা গান্ধীর আত্ম জীবনী
⇒ গান্ধীজী সম্পাদিত পত্র পত্রিকা
- Indian Opinion (১৯০৩-১৫) – ইংরেজি, হিন্দি, গুজরাটি ও তেলেগু ভাষায়।
- Harijan (হরিজন ১৯১৯-৩১) – ইংরেজি, গুজরাটি ও হিন্দি ভাষায়।
- Young India – ইংরেজি ও গুজরাটি ভাষায়।
গান্ধী বিষয়ক বই গুলি কী কী?
বেশ কয়েকজন জীবনীকার গান্ধীর জীবনী রচনার কাজ করেছেন। এর মধ্যে দুইটি রচনা প্রণিধানযোগ্য।
- Mahatma. Life of Mohandas Karamchand Gandhi – ডি. জি. তেন্ডুলকর
- Mahatma Gandhi – পিয়ারীলাল ও সুশীলা নায়ার
- Gandhi Behind the Mask of Divinity – আমেরিকান সেনাবাহিনীর জি বি সিংহ
♦ গান্ধীজীর সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য :
- ১৮৮৮ সালে ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য তিনি লন্ডনে যান।
- ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাঝে মহাত্মা গান্ধী ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নির্বাহী দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। তার নেতৃত্বে কংগ্রেস স্বরাজের লক্ষ্যকে সামনে রেখে নতুন সংবিধান গ্রহণ করেন।
- ৪টি মহাদেশের ১২টি দেশের গণ-আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।
- ১৯২৮ সালের ডিসেম্বরে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি ভারতকে ডোমিনিয়নের মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানান।
- ১৯৩৩ সালের ৮ মে তিনি হরিজন আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে ২১ দিন ধরে অনশন করেন।
- ব্রিটেন মহাত্মার জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষে ১৯৬৯ সালে তাঁর নামে ডাকটিকিট চালু করে।
- স্বাধীনতা পাওয়ার পরে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর প্রথম বক্তৃতার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন না গান্ধী। ধর্মীয় সংহতি বজায় রাখতে কলকাতায় ছিলেন তিনি।
- মহাত্মা গান্ধীর ইংরেজি উচ্চারণের মধ্যে আইরিশ প্রভাব ছিল। কারণ তাঁর প্রথম শিক্ষক ছিলেন একজন আইরিশ।
- গান্ধীজী কখনো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাননি। তবে সেখানেও তাঁর ভক্ত কম নেই। তাঁর অন্যতম বড় অনুরাগী ছিলেন হেনরি ফোর্ড। এক সাংবাদিকের হাত দিয়ে তাঁকে একটি সুতা কাটার চরকা উপহার দেন গান্ধী।
⇒ মহাত্মা গান্ধীর জীবনী নিয়ে কিছু SAQ প্রশ্ন উত্তর
১. গান্ধীজীর আসল নাম কী ছিল?
উঃ মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী
২. গান্ধীজীর বাবার নাম কি ছিল?
উঃ করমচাঁদ উত্তমচাঁদ গান্ধী
৩. গান্ধীজীর বাবার ডাক নাম কী ছিল?
উঃ কাবা গান্ধী
৪. গান্ধীজীর ঠাকুরদার নাম কী ছিল?
উঃ উত্তমচাঁদ গান্ধী
৫. গান্ধীজীর মার নাম কী ছিল?
উঃ পুতলিবা।
৬. গান্ধীজীর স্ত্রীর নাম কী ছিলো?
উঃ কস্তুরবা মাখাঞ্জী (কাস্তুবাই নামেও পরিচিত ছিলেন)
৭. গান্ধীজীর শশুরের নাম কী ছিল?
উঃ গোকূলদাস কাপাডিয়া
৮. গান্ধীজীর চার পুত্র সন্তানের নাম কী?
উঃ হরিলাল, মণিলাল, রামদাস, দেবদাস।
৯. কোন্ সালে এবং কত বছর বয়সে গান্ধীজী মেট্রিক পাস করেন?
উঃ ১৮৮৭ সালে.১৮ বছর বয়সে।
১০. গান্ধীজীর মুখ থেকে নিঃসৃত শেষ কথাটি কি ছিল?
উঃ গান্ধীজীর মুখ থেকে নিঃসৃত শেষ কথাটি ছিল “হে রাম”।
⇒ গান্ধীজীর কিছু বিশেষ বাণী
- যখনই কোনও প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে, তাকে ভালোবাসার সাথে অর্জন করো।
- দুর্বল মানুষ কখনও ক্ষমা করতে পারে না, ক্ষমা শক্তিমানের ধর্ম।
- আজ তুমি যা করবে, তার উপরই নির্ভর করবে ভবিষ্যত।
- চোখের বদলে চোখ গোটা বিশ্বকে অন্ধ করে দেবে।
- এমনভাবে জীবনযাপন করো, যেন মনে হয় তুমি আগামীকালই মারা যাবে। এমনভাবে শিখবে যেন তোমার সময়ের অভাব নেই,তুমি চিরজীবী।
- ভালোবাসা জগতের সবচেয়ে শক্তিশালী শক্তি।
- যেদিন ভালবাসা, ক্ষমতার লোভকে হরিয়ে দেবে, সেদিন এই পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসবে।
- পৃথিবীতে তুমি যে পরিবর্তন দেখতে চাও তা নিজ থেকেই শুরু করো।
- ভিড়ের মধ্যে দাঁড়ানো সহজ, কিন্তু একাকী দাঁড়াতে সাহস দরকার।
⇒ গান্ধীজীকে নিয়ে বিশেষ কুইজ পরিবেষণ
১. মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকে ‘মহাত্মা’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন?
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) ব্রিটিশ সরকার
গ) জওহরলাল নেহেরু
ঘ) এক অজ্ঞাত সাংবাদিক
উত্তর- ক
২. গান্ধীজী কে “জাতির জনক” নামে সম্বোধন করেন কে?
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) বিদ্যাসাগর
গ) জওহরলাল নেহেরু
ঘ) নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু
উত্তর- ঘ
৩. জাতিসংঘ কবে গান্ধীজীর স্মরণে ২রা অক্টোবরকে “আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস” হিসেবে ঘোষণা করে?
ক) ১৫ জুন ২০০৭
খ) ১৫ জুন ২০১০
গ) ১৮ জুন ২০০৭
ঘ) ১৫ জুলাই ২০০৭
উত্তর- ক
ব্যাখ্যা- ২০০৭ সালের ১৫ই জুন জাতিসংঘের সাধারণ সভায় ২রা অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। জাতিসংঘের সকল সদস্য দেশ এ দিবস পালনে সম্মতি জ্ঞাপন করে।
৪. কত বছর বয়সে গান্ধীজী কে কাস্তবাইয়ের সাথে বিয়ের বন্ধনে বেঁধে দেয়া হয়?
ক) ১৪
খ) ১৩
গ) ২১
ঘ) ১৮
উত্তর- খ
ব্যাখ্যা- গান্ধী কিশোর বয়সে বিয়ে করেছিলেন। করেছিলেন বললে খানিক ভুল হবে, করানো হয়েছিল। কাস্তবাইয়ের সাথে তার ৭ বছর বয়সেই বিয়ে ঠিক হয়। ১৮৮৩ সালে ১৩ বছর বয়সের গান্ধীকে ১৪ বছর বয়সী কাস্তবাইয়ের সাথে বিয়ের বন্ধনে বেঁধে দেয়া হয়। সেই বন্ধন গান্ধী সারাজীবন অটুট রেখেছিলেন। শুধু তাই নয়, গান্ধীর সকল আন্দোলনের অন্যতম অনুপ্রেরণাদাত্রীও ছিলেন কাস্তবাই। যদিও ৩৭ বছর বয়সে গান্ধী নারী সংসর্গ পরিত্যাগ করেন। বৈবাহিক জীবনে কাস্তবাই এবং গান্ধী ৪ ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। এদের নাম হল- হরিলাল, মণিলাল, রামদাস, দেবদাস।
৫. “রামচন্দ্রের লঙ্কা অভিযানের মত গান্ধীজীর এই মিছিল স্মরণীয় হয়ে থাকবে”- গান্ধীজীর ডান্ডি অভিযান সম্পর্কে কে এই উক্তি করেছিলেন?
ক) সরোজিনী নাইডু
খ) মতিলাল নেহেরু
গ) বল্লবভাই প্যাটেল
ঘ) জওহরলাল নেহেরু
উত্তর- খ
ব্যাখ্যা- ১৯৩০ সালের ১২ মার্চ ডান্ডি পদযাত্রা বা লবন সত্যাগ্রহ শুরু হয়। এই সত্যাগ্রহ ছিল ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। লবণ পদযাত্রা ঔপনিবেশিক ভারতে ব্রিটিশদের একচেটিয়া লবণ নীতির বিরুদ্ধে একটি অহিংস করপ্রদান-বিরোধী প্রতিবাদ আন্দোলন। এই আন্দোলনের মাধ্যমেই আইন অমান্য আন্দোলনের সূচনা হয়।
মহাত্মা গান্ধী আমেদাবাদের কাছে তার সবরমতী আশ্রম থেকে ডান্ডি পদযাত্রা শুরু করে ২৪ দিনে ২৪০ মাইল (৩৯০ কিলোমিটার) পথ পায়ে হেঁটে ডান্ডি গ্রামে এসে বিনা-করে সমুদ্রের জল থেকে লবণ প্রস্তুত করেন। বিরাট সংখ্যক ভারতীয় তার সঙ্গে ডান্ডিতে আসেন। ১৯৩০ সালের ৬ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৬টার সময় গান্ধীজি লবণ আইন ভেঙে প্রথম লবণ প্রস্তুত করেছিলেন।
৬. বাল্যকালে গান্ধীজীর ডাক নাম কী ছিল?
ক) মানু বা মানিয়া
খ) মনু
গ) সোনা
ঘ) কমল
উত্তর- ক
৭. ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট মুম্বাই এর গৌলিয়া ট্যাঙ্ক ময়দানে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের গান্ধীজীর সেই বিখ্যাত স্লোগানটি কি ছিল?
ক) ‘করো অথবা মরো’ (Do or Die)
খ) ‘সারে জাহাঁ সে আচ্ছা..’
গ) ‘স্বরাজ জন্মগত অধিকার’
ঘ) ‘সরফোরশি কি তমন্না’
উত্তর- ক
৮. গান্ধীজী তাঁর ফুসফুসের সাথে তুলনা করেছেন নিচের কোন্ দুটি কে?
ক) ব্রম্ভ্রচর্য ও ত্যাগ
খ) অহিংসা ও শান্তি
গ) অহিংসা ও সত্য
ঘ) সত্য ও শান্তি
উত্তর- গ
৯. “নতজানু হয়ে রুটি চেয়ে পেলাম কেবল পাথর”-এই বিখ্যাত উক্তিটি গাধীজী কোন আন্দোলের পরিপ্রেক্ষিতে করেছিলেন?
ক) ডান্ডি অভিযান
খ) অসহযোগ আন্দোলন
গ) ভারত ছাড়ো আন্দোলন
ঘ) খিলাফৎ আন্দোলন
উত্তর- ক
১০. গান্ধী তার জীবদ্দশায় দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ভারতে সব মিলিয়ে কতবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন?
ক) ১৩ বার
খ) ১৪ বার
গ) ২২ বার
ঘ) ৩১ বার
উত্তর- ক
ব্যাখ্যা- গান্ধী তার জীবদ্দশায় দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ভারতে সব মিলিয়ে ১৩ বার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সবচেয়ে বড় সাজার আদেশ পেয়েছিলেন ১৯২২ সালে Young India পত্রিকায় ব্রিটিশ বিরোধী জ্বালাময়ী আর্টিকেল লেখার জন্য তাকে ৬ বছরের কারাদন্ড দেয়া হয় কিন্তু অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে ১৯২৪ সালেই মুক্তি দেয়া হয়।
১১. নোবেল কমিটি গান্ধীজী কে কতবার নোবেল মনোনয়ন দিয়েছিল?
ক) ৩ বার
খ) ৬ বার
গ) ৪ বার
ঘ) ৫ বার
উত্তর- ঘ
ব্যাখ্যা- আমরা ভালো কাজকে পুরস্কৃত করে থাকি। কিন্তু কিছু কিছু কর্ম থাকে, কিছু কিছু মানুষ থাকেন যারা সকল পুরস্কারের ঊর্ধ্বে, বরং পুরষ্কার তাদের মহৎ কর্মকে খাটো করে। গান্ধী হলেন তেমনি পুরস্কারের ঊর্ধ্বের মানুষ। যাকে নোবেল কমিটি ৫ বার নোবেল মনোনয়ন দিয়েছিল। ১৯৩৭, ১৯৩৮, ১৯৩৯ এবং ১৯৪৭ সালে মনোনয়ন দিলেও ১৯৪৮ সালে শান্তিতে নোবেল গান্ধিরই পাবার কথা ছিল। কিন্তু ২ অক্টোবর আততায়ীর গুলিতে মৃত্যু হওয়ায় গান্ধীকে পুরষ্কার দিয়ে খাটো করা যায়নি।
১২. মহাত্মা গান্ধী জগৎ বিখ্যাত “Time Magazine” এর ‘Man of the Year’ হয়েছিলেন কত সালে?
ক) ১৯৩০
খ) ১৯৪০
গ) ১৯৩১
ঘ) ১৯৩৫
উত্তর- ক
গান্ধীজীকে নিয়ে বিশেষ কুইজ পরিবেষণ, Jatir Janak Mahatma Gandhi in Bengali, হিন্দ স্বরাজ, সত্যাগ্রহ আন্দোলন, হরিলাল গান্ধী, অহিংস অসহযোগ আন্দোলন, মহাত্মা গান্ধীর উক্তি, গান্ধীজীর বুনিয়াদি শিক্ষা, মহাত্মা গান্ধী ৰচনা অসমীয়া, জওহরলাল নেহেরু, গান্ধীজির অপকর্ম বই PDF, মহাত্মা গান্ধীর সন্তান, গান্ধীজির ব্রহ্মচর্য পরীক্ষা, মহাত্মা গান্ধীর বাণী, গান্ধীর ছাগল চুরি, কে অসহযোগ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন, চরমপন্থী কাকে বলে, কাইজার ই হিন্দ কাকে বলা হত, স্বাধীনতা আন্দোলনে মহাত্মা গান্ধীর ভূমিকা, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে মুসলমানদের ভূমিকা, মহাত্মা গান্ধী বই pdf, মহাত্মা গান্ধীর জীবনী , নাথুরাম গডসের জীবন কাহিনী, ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, গান্ধী হত্যা, মহাত্মা গান্ধী জীবনী, মহাত্মা গান্ধী বিষয়, মহাত্মা গান্ধী অনুচ্ছেদ রচনা, মহাত্মা গান্ধী কুইজ, মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যু, মহাত্মা গান্ধী বই pdf, গান্ধী জয়ন্তী রচনা, মহাত্মা গান্ধীর সন্তান, মহাত্মা গান্ধীর বাণী, মহাত্মা গান্ধীর কিছু অজানা তথ্য, গান্ধী সম্পর্কে সেই ১২টি তথ্য, মহাত্মা গান্ধী সম্পর্কে ১৩টি অজানা তথ্য, গান্ধীজিকে কেন হত্যা করা হয়েছিল, মহাত্মা গান্ধীর জীবনী, Books Written by Mahatma Gandhi, Mahatma Gandhi Education Life, Mahatma Gandhi Short Biography in Bengali


Pingback: কুইজ : গান্ধী জয়ন্তী তে মহাত্মা গান্ধীজী কে নিয়ে বিশেষ কুইজ