HS Historyদ্বাদশ শ্রেণি

উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ বিষয়ে হবসন-লেনিনের তত্ত্ব আলােচনা করাে।

পোস্টটি শেয়ার করুন
4.2/5 - (5 votes)

পশ্চিমবঙ্গের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা ২০১৫ (West Bengal Higher Secondary Exam 2015) ইতিহাস বিষয়ে (History Subject) থেকে এই রচনাধর্মী প্রশ্নটি এসেছে। উত্তরটি নিম্নে দেওয়া হল


উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ বিষয়ে হবসন-লেনিনের তত্ত্ব আলােচনা করাে।


ইউরােপে শিল্পবিপ্লবের প্রেক্ষাপটে উন্নত দেশগুলি যেমন- ইংল্যাণ্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, জার্মানি প্রভৃতি উদ্বৃত্ত শিল্পপণ্যকে বাজারজাত করার জন্য অন্যত্র উপনিবেশ বিস্তার ও সাম্রাজ্যবাদী নীতি অনুসরণ করে।

শিল্পজাতপণ্যের বাজারে বিপণন ও সাদরে উপনিবেশ থেকে বা দখলিকৃত সাম্রাজ্য থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে ধনবৃদ্ধির পথ এই উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের উদ্দেশ্য। মূলত অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যে শিল্পোন্নত পুঁজিবাদী দেশগুলির দ্বারা অনুসৃত এই উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদকে নয়া উপনিবেশবাদ বা সাম্রাজ্যবাদ বলে।

অর্থনৈতিক ব্যাখ্যাদাতাদের মধ্যে সর্বাধিক অগ্রগণ্য হলেন জে, এ. হবসন ও ভি, আই, লেনিন। তাদের ব্যাখ্যা ‘হবসন-লেনিন থিসিস’ নামে পরিচিত।

Join us on Telegram

হবসনের ব্যাখ্যা প্রকাশ পায় ১৯০২তে,Imperialism: A study’ গ্রন্থে। সাম্রাজ্যবাদের মুল শিকড় হল উদ্বৃত্ত পুঁজি বিনিয়ােগের ক্ষেত্র অনুসন্ধান। উপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদ ছিল পশ্চিম ইউরােপের শিল্পোন্নত দেশে বিকশিত অর্থনৈতিক অগ্রগতির স্বাভাবিক পরিণতি।

হবসন বলছেন যে ধনতান্ত্রিক বা পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থায় পুঁজিপতি মালিকদের হাতে বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রচুর মুলধন সঞ্চিত হয়। এই মুলধনের পাহাড় সৃষ্টি হলে সমাজে ধনসম্পদ বন্টনের ক্ষেত্রে ব্যাপক বৈষম্য দেখা যায়। পুঁজিপতিরা এশিয়া ও আফ্রিকাকে কাঁচামাল সংগ্রহ করার অঞ্চল হিসাবে চিহ্নিত করে, নিজেদের দেশে শিল্পের প্রসার ঘটাতে শুরু করে।

উৎপাদিত দ্রব্য অনুন্নত দেশগুলিতে বিক্রি করে প্রচুর মুনাফা অর্জন করত। প্রচুর উও পুজি সৃষ্টি হতে থাকে। তখন এই পুজি নতুন করে বিনিয়ােগ করে আরও বেশি মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করে। পুঁজিপতিদের অনুরােধেসমস্ত দেশ তখন যাদের উদ্বৃত্ত পুঁজি আছে, উপনিবেশে বিনিয়ােগ করে আরও মুনাফা অর্জন করার পরিকল্পনা করে।

তারা নিজের সরকারকে চাপ দিয়ে উপনিবেশ দখল করতে বাধ্য করে। হবসন মনে করেন যে, উপনিবেশিক রাষ্ট্রের পুঁজিপতিদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল অধিক মুনাফা ও সম্পদবৃদ্ধি। তারা সস্তায় কাঁচামাল কিনে, উচ্চমূল্যে পণ্যবিক্রি ও বাজার দখল করে এশিয়া ও আফ্রিকার মত দেশে রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করে। এইভাবে ধারাবাহিক সময় ধরে কাঁচামাল সংগ্রহ এবং উপনিবেশের বাজারে নিজের শিল্পজাত পণ্য বিক্রির মাধ্যমে আরও মুনাফা অর্জন যার জন্য অর্থনৈতিক অবস্থা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পায়।

হবসন মনে করেন যে পুঁজিপতিদের শ্রেণির বিপুল পরিমাণ অর্থ এবং তা বিনিয়ােগের জন্য উপনিবেশ প্রতিহত করা সম্ভব। তিনি বলেন যে, সম্পদের সুষমবণ্টন ও আভ্যন্তরীণ সামাজিক সংস্কারের মাধ্যমে সমাধান সম্ভব। পুঁজিপতিদের বাড়তি মুলধন যদি দরিদ্ৰশ্রেণির মধ্যে বিতরণ করা যায় এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার হয়। তার মতে, মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হলে তারা কলকারখানায় উৎপাদিত উত্ত সামগ্রী কিনে ব্যবহার করলে, তখন উদ্বৃত্ত সামগ্রী বিক্রির জন্য আর উপনিবেশ দখলের প্রয়ােজন হবে না।

কমিউনিস্ট নেতা ভি, আই, লেনিন, সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশিক প্রসারের অর্থনৈতিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন তার লেখা গ্রন্থে— Imperialism- the Highest stage of capitalism, তিনি বলছেন পুঁজির উদ্ভব ঘটেছে শিল্পের অগ্রগতির জন্য ইউরােপের মুষ্টিমেয় পুঁজিপতিদের হাতে। এই সঞ্চিত পুঁজি লাভজনকভাবে বিনিয়ােগ।

এই পুঁজি ইউরােপের গণ্ডির মধ্যে বিনিয়ােগ করে বিপুল পরিমাণ মুনাফা অর্জন করা সম্ভাবনা কম ছিল। এই জন্য তারা ইউরােপের বাইরে নতুন উপনিবেশের প্রসার ঘটিয়ে যেখানে উত্ত পুঁজি বিনিয়ােগের বিভিন্ন ক্ষেত্র প্রতিষ্ঠা রার বিষয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে।

এই বাস্তব প্রয়ােজন থেকেই ইউরােপের পুঁজিপতিরাষ্ট্রগুলির এশিয়া ও আফ্রিকায় বিভিন্ন দেশে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে সেখানে পুজি লরি উদ্যোগ নেয়। বাজার দখল ও কাঁচামাল সংগ্রহ লেনিনের মতে পুঁজিবাদের জঠরে সাম্রাজ্যবাদের জন্ম। পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের শিল্পমালিকেরা বেশি মুনাফা লাভের আশায় দেশের প্রয়ােজনের থেকে বেশি পণ্য সামগ্রী উৎপাদন করে। প্রয়ােজনের অতিরিক্ত এইসব পণ্য বিক্রি এবং শিল্প উৎপাদনের জন্য সস্তায় কাঁচামাল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলি উপনিবেশ দখলের চেষ্টা চালায়।

বিভিন্ন পুঁজিবাদী রাষ্ট্র উপনিবেশ দখলের উদ্যোগ নিলেও উপনিবেশের সংখ্যা ছিল সীমিত। ফলে উপনিবেশ দখলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পুঁজিবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিদ্বন্দিতা বা শত্রুতার সূচনা হয়, যার অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হল যুদ্ধ। পুঁজিবাদী অর্থনীতি হল যুদ্ধের জন্মদাতা।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণ পুঁজিবাদী শক্তিগুলির কর্তৃক উপনিবেশ দখলের লড়াই। শ্রমিক শ্রেণির উন্নত জীবনের দিকে ও উন্নত দেশগুলির নজর ছিল। তারা এশিয়া ও আফ্রিকার অনুন্নত দেশ বেছে নিয়েছে, সেখানকার শ্রমিকদের সীমাহীন শােষণ করে শিল্পস্থাপন করার জন্য পুঁজি বিনিয়ােগে শিল্পস্থাপন আরও ফলপ্রসূ হবার জন্য নিজেদের দেশে ইউরােপে তাদের উন্নত শ্রমিক শ্রেণি একধরনের অনুগত হয়ে শ্রমিক বিপ্লবকে উপেক্ষা করে বুর্জোয়াদের সমর্থন করে।

এই হবসন ও লেনিনের ব্যাখ্যার ত্রুটি বিচ্যুতি থাকলেও, এর গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। ডেভিড় টমসন বলেন, উনিশ শতকের শেষ দিকে ইউরােপীয় দেশগুলি কর্তৃক সাগরপাড়ে নিরাপদ বিনিয়ােগের ক্ষেত্র সন্ধানের আগ্রহ তাদের উপনিবেশ দখলে বিশেষ উদ্যোগী করে তুলেছিল।


Source: https://wbchse.nic.in

Students Care

স্টুডেন্টস কেয়ারে সকলকে স্বাগতম! বাংলা ভাষায় জ্ঞান চর্চার সমস্ত খবরা-খবরের একটি অনলাইন পোর্টাল "স্টুডেন্ট কেয়ার"। পশ্চিমবঙ্গের সকল বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের এবং সমস্ত চাকুরী প্রার্থীদের জন্য, এছাড়াও সকল জ্ঞান পিপাসু জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিবর্গদের সুবিধার্থে আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: স্টুডেন্টস কেয়ার কতৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত !!